স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত থেকে যমুনার প্রবল স্রোতে সড়কসংলগ্ন অংশে ভাঙন শুরু হয়। রাতভর স্থানীয় বাসিন্দারা বাঁশ, গাছ ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত সড়কের একটি অংশ নদীতে বিলীন হয়ে যায়।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও জরুরি সেবার যানবাহন বিকল্প সড়ক ব্যবহার করছে। এতে সময় ও পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে নদীর তীরবর্তী এলাকায় নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কায় আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এদিকে ভাঙন রোধে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করেছে। তবে যমুনার তীব্র স্রোতের কারণে কাজ পরিচালনায় নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে। অস্থায়ীভাবে ভাঙন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চললেও স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য স্থায়ী নদীতীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণের বিকল্প নেই।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে একই ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও স্থায়ী কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। শুধু জিওব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়, যা দীর্ঘস্থায়ী সমাধান দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জনপ্রতিনিধিরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের আরও অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলার বহু গ্রাম প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। এতে বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুরুল মোর্শেদ জানান, প্রশাসন পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা নিয়মিত পরিদর্শন করা হচ্ছে।
অন্যদিকে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দীন বলেন, ভাঙন নিয়ন্ত্রণে জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে জিওব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে। পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো স্থায়ীভাবে সংস্কারের পরিকল্পনাও রয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে যমুনার অব্যাহত ভাঙনে গুরুত্বপূর্ণ এই আঞ্চলিক মহাসড়কসহ বিস্তীর্ণ জনপদ আরও বড় ঝুঁকির মুখে পড়বে।
দেশ বাংলা টিভি ডেক্স